মাধবপুরে অনৈতিক কার্যকলাপ দেখে ফেলায় হাবিবকে হত্যা

এস এম আমীর হামজা, হবিগঞ্জ।। দীর্ঘদিন পর মাধবপুর উপজেলার উজ্জলপুর গ্রামে চাঞ্চল্যকর হাবিব হত্যা মামলার রহস্য উৎঘাটন হয়েছে।হত্যাকান্ডে জড়িত অন্যতম ঘাতক সোহাগ মিয়া (২২) নিজে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দিয়েছে।বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি প্রদান করা হয়।ঘাতক সোহাগ মিয়া একই গ্রামের বাচ্ছু মিয়ার পুত্র। নিহত হাবিব উজ্জলপুর গ্রামের মৃত তাউস মিয়ার পুত্র।এর পুর্বে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাধবপুর উপজেলার দরগাহ গেইট এলাকা থেকে সোহাগ মিয়াকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হবিগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক এসআই ইকবাল বাহারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ।আদালতের বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইকবাল বাহার সাংবাদিকদের জানান, ঘাতক সোহাগ মিয়া সে নিজে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছে। এ ছাড়াও সোহাগ মিয়া তার প্রেমিকার সাথে অনৈতিক কার্যকলাপ করার সময় দেখে ফেলে নিহত হাবিব। পরে সে তা গ্রামে ছড়িয়ে দেয়। এরই জের ধরে সে আরও বেশ কয়েকজন যুবককে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে।এক পর্যায়ে সুযোগ মত তাকে নির্মম ভাতে হত্যা করে লাশ কালিকাপুর গ্রামের হাওরে জমিতে পুতে রাখে। হাবিবকে হত্যায় আরও কে কে জড়িত তাদের নামও সে আদালতে প্রকাশ করে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করেনি তদন্তকারী কর্মকর্তা।উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট হাবিবকে হত্যার পর লাশ মাটি দিয়ে পুতে রাখা হয়। পরে লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।পরে এ ঘটনায় নিহত হাবিরের মা জাহেদা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা কয়েকজনকে আসামী করে মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলা দায়েরের পর কোন রহস্য উৎঘাটন না হওয়ায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। এক পর্যায়ে মামলাটি তদন্তভার পরে ডিবি পুলিশের এসআই ইকবাল বাহারের উপর।এরই প্রেক্ষিতে তিনি দ্রুত মামলাটির তদন্ত শেষে ঘাতককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।এ ব্যাপারে এসআই ইকবাল বাহার জানান, সোহাগের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অন্যান্য আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। এদিকে, আদালতে জবানবন্দি শেষে ঘাতক সোহাগকে রাতেই কারাগারে প্রেরণ করা হয়।