দুর্নীতির মহাসড়কে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি, জনগন নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন চায় : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশে এখন সুশাসন নেই। ১৬ কোটি মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমরা মাঠে নেমেছি। আবশ্যই আমরা জয়ী হবো। দেশের মানুষ শান্তিতে নাই। দুর্নীতির মহাসড়কে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি। আমরা একজনের শাসন চাইনা। নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন চাই। প্রাদেশিক পদ্ধতির শাসন আমাদের সুশাসন দিতে পারে। দেশের ৮টি প্রদেশের চট্টলা হবে একটি প্রদেশ। প্রাদেশিক সরকার এ অঞ্চলের মানুষ শাসন করবে। বাংলার মানুষকে বাঁচাতে হবে। সর্বস্তরে নিরাপত্তা চাই। খুন হয় তা সরকার জানে।
গতকাল শনিবার বিকেলে সমাবেশে তিনি আরো বলেন, আগে আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকা-রংপুর যাতায়তে সময় লাগতো ৫ ঘন্টা। এখন লাগে ১৫ ঘন্টা। অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে বড় বড় গর্ত। মহাসড়কে হাবুডুবু খাচ্ছি। আমাকে বলত স্বৈরাচার। এখন আন্তর্জাতিকভাবে বলেছে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের কথা। গত দুই সরকারের সময় ৫ বার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। আমার সরকারের সময়তো তা ছিলনা। আমি ৪৬০টি উপজেলা, ৬৪টি জেলা, ১০ হাজার কি:মি: রাস্তা পাকাসহ বিভিন্ন ধরণের উন্নয়নের কাজ করেছি। যা বলে শেষ করা যাবেনা। কাফকো, সিইউএফএল করেছি। সিইউএফএল এ আমার সময়ে সার উৎপাদন হত, এখন সেখানে ১০ ট্রাক অস্ত্র খালাস হয়। চট্টগ্রামকে দ্বিতীয় রাজধানী করার চেষ্টা করেছি। হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন করেছি।
প্রদান অতিথির বক্তব্যে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি তিনি বলেন, উপজেলাগুলোতো আমার বাবার নয়, নিয়ে যাইনি। তা বন্ধ করা হলো কেন। সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল ১০ টাকায় চাউল খাওয়াবেন। ঘরে ঘরে চাকুরী দিবেন। এখন মানুষ ৬০/৭০ টাকায় চাউল খায়। গরীব মানুষের কষ্ট হয়। আর ঘরে ঘরে চাকুরীর খবর নেই। দেশে এখন ৪ কোটি ৮৬ লক্ষ বেকার যুবক। তারা এখন দেশের বোঝা। যুবকরা এখন ইয়াবায় আসক্ত হয়। যেখানে সেখানে ইয়াবা পাওয়া যায়। এখন বাল্যকালেই বাবা-মা ১৪ বছর বয়সেই মেয়ে বিয়ে দিয়ে দেন। কখন তার মেয়ে ধর্ষিত হয় এই ভয়ে। রাস্তার পাশে তার বাবা বসে থাকেন কখন তার মেয়ে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু ফিরে না, ধর্ষিত হয়ে পড়ে থাকে ধানক্ষেতে।
তিনি বলেন, ব্যাংকের টাকা লুটপাট হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চলে গেল, নাম প্রকাশ হলোনা। নিজেদের লোক জড়িত থাকলে নাম প্রকাশতো হবেনা। বাংলাদেশের যারা প্যারাডাইস পেপারস কেলেংকারীর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির কথা বলে শেষ করা যাবেনা। সংসদে শিক্ষামন্ত্রী যখন বলেন, ঘুষ খান সহনীয় পর্যায়ে, তারপরও তিনি মন্ত্রী থাকেন। জিপিএ-৫ পাশ করে নিজের নাম ঠিকমত লিখতে পারেনা। আগে পাশ করা ছিল কঠিন। এই পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থা দেশকে ভালকিছু দিতে পারেনা। এ সকল কিছুর জন্য আমাদের নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন প্রয়োজন। সরকারের পরিবর্তন প্রয়োজন। জনগন সীল দিতে পারলে, দেখবেন ঠিকই সরকার পরিবর্তন হবে। জানিনা আমরা সীল দিতে পারবো কিনা। অনেক কথা বলেছি। জানিনা আবার জেলে যেতে হয় কিনা। গরীব কৃষকরা টাকা না দিলে ধরে নিয়ে যায়। অথচ বড় বড় ঋনখেলাপীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। মানুষ একটু নিঃশ্বাস নিতে চায়। ইরান, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্থানের মানুষকে সন্ত্রাসী বলছে পশ্চিমারা, ইসলামে সন্ত্রাসী বলতে কিছু নাই, আছে জিহাদ। তারা সন্ত্রাসী বলে নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ইসলামের কথা বলে যাবো।
সমাবেশে চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে আলহাজ্ব হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনেও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে ভোট দিবেন আপনারা।
সমাবেশে বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায় মন্তব্য করে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেছেন, দেশের মানুষ দুই নেত্রীকে চায়না। খালেদা, হাসিনাকে চায় না।
সম্মিলিত জাতীয় জোটের শীর্ষনেতা ও ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে সমাবেশে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু আরও বলেন, দেশের মানুষ পরির্তন চায়। ২৮ বছর ধরে দেশে হত্যা, খুন বেড়ে চলেছে। দেশে চলছে লুঠপাট। আজকের মহাসমাবেশের জনস্রােত প্রমাণ করে দেশের মানুষ সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতায় চান। আগামী নির্বাচনে লাঙ্গল-মোমবাতি মার্কায় জোটবদ্ধ হয়েছে। আমাদের ক্ষমতায় আসতে হবে। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।
সমাবেশে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সোলেমান আলম শেঠ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কারাগারে খালেদা জিয়া

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আবারও কারাগারে নেয়া হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দুপুর দেড়টার দিকে তাকে আবারও কারাগারে নেয়া হয়।

বিএসএমএমইউ’র কয়েকজন চিকিৎসক খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। হাসপাতালে বেগম জিয়ার রক্ত পরীক্ষা ও এক্স-রে করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কক্ষে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় খালেদা জিয়ার। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে খালেদা জিয়ার কয়েকটি এক্স-রে করা হয়েছে।

এদিকে, খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে আসছেন এমন খবর পেয়ে ওই এলাকায় ভিড় করতে দেখা গেছে বিএনপি নেতা-কর্মীদের। একটা সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলেছেন শাহবাগ থানার এক কর্মকর্তা।

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর জামিনে কারামুক্ত

নিউজ ডেক্স : বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আজ বিকেলে জামিনে আজ বিকেলে কারামুক্ত হয়েছেন।

হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের প্রিজনভ্যানে হামলা করে নেতাকর্মীদের ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গত ৩০ জানুয়ারী রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গয়েশ্বর রায় কাশিমপুর কারাগার থেকে বের হয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করতে যান।

 

রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী নৌকায় ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন : রিজভী

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে নৌকায় ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী-এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। সোমবার সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভোট চাচ্ছেন কেন? প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টাকা খরচ করে, সরকারি হেলিকপ্টার নিয়ে, সরকারি সার্কিট হাউজ ব্যবহার করে, সরকারি প্রটোকল ব্যবহার করে ভোট চাওয়া কোন ধরনের রাজনীতি জনগণ তা জানতে চায়। এটা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনারের। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের চোখে এসব পরে না।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হয়েছে। দুটি নির্বাচনই হবে দলীয় প্রতীকে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। এটি নির্বাচনি আচরণ বিধিমালার সুষ্পষ্ট লংঘন।’

ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ‘রিপভ্যান উইংকেল’র মতো দীর্ঘ নিদ্রায় থাকে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভিত্তি হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর বন্দুকের নল। তিনি হুংকার আর ধমক দিয়ে সব কিছুই করতে চান। তাই তিনি আইন ও নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘যে প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়, তার মুখে ভোট চাওয়া জনগণের সঙ্গে ইয়ার্কি, তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই সরকারের না প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দল এরশাদ কেউই জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন।”জনগণের কাছে আওয়ামী লীগ, সরকার, মহাজোট একটি আতংকের নাম। আর একারণেই অনাচারের ওপর দেশ চালাচ্ছে।