পহেলা বৈশাখে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: আসাদুজ্জামান খান কামাল

নিউজ ডেক্স : শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর রমনা বটমূলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন কালে আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান পহেলা বৈশাখে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। বাঙ্গালীর এ উৎসবকে নিবিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ সময় পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াত, ডগ স্কোয়ার্ড ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট নিরাপত্তা মহড়া দেয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকর্তারা। এদিকে, রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের প্রস্তুতি চলছে। মঞ্চ সজ্জ্বা থেকে আসন বিন্যাসের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে।

মতিয়ার-মুহিতের মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আবারো আন্দোলন

কোটা ব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার সকালেও ছিলেন দ্বিধা-বিভক্তির মধ্যে। কিন্তু কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এক বিতর্কিত মন্তব্যে তারা আবার একযোগে আন্দোলনে নেমেছেন। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের একটি মন্তব্যও তাদের ফের তাতিয়ে দিয়েছে।

একদিন আগে জাতীয় সংসধের অধিবেশনে মতিয়া চৌধুরী কোটা সংস্কারের পক্ষে আন্দোলন করা শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে অভিহিত করেন। আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন যে, আগামী জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করা সম্ভব নয়।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এই দুই ব্যক্তিত্বের মন্তব্যের পর আবার আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে আন্দোলনকারীদের সংগঠন থেকে জানানো হয়, টিএসসি এলাকায় তারা অন্তত ২০ হাজার সদস্য আছেন।

এর আগে মন্তব্য প্রত্যাহারের জন্য মতিয়া চৌধুরী ও আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন আন্দোলনকারীর। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহারের কোনো ঘোষণা দেননি তারা।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যদি কোটা সংস্কারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য না দেন বা সংস্কার কবে নাগাদ হবে, তা স্পষ্ট না করেন, তাহলে আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে তারা আন্দোলনে গ্রেফতারকৃতদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানান। এ সব দাবি মানা না হলে আন্দোলন চলতে থাকবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের মধ্যে সমঝোতা সই আজ : চট্টগ্রামে আলোর মুখ দেখছে জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের কাজ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: অবশেষে আলোর মুখ দেখছে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের কাজ। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) গৃহীত ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরে (২০১৭-২০১৮) অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদনের পর প্রক্রিয়া ঠিক করতেই বেশ কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও নানা বাধা কাটিয়ে অবশেষে নগরীর দুঃখখ্যাত জলাবদ্ধতা নিরসনে এই মেগা প্রকল্পটি আজ সোমবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাথে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের মধ্যে সমঝোতা সই হওয়ার কথা রয়েছে। এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন নগরবাসীর এমনটি বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), বন্দর, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরের সহযোগিতা কামনা করেছেন চউক।
চউক সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মার্চ সিডিএ কনফারেন্স হলে মেগা প্রকল্পের প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা ও আসন্ন বর্ষার আগেই প্রকল্পের কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেকে শর্তসাপেক্ষে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে আহ্বায়ক, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রীকে সদস্য করে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি নিয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়। টেকনিক্যাল কমিটির প্রতিনিধিরা বেশ কয়েকবার সভা করে জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেন।
চউক সূত্রে আরো জানা যায়, প্রথম ধাপে বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রকল্পের অধীনে ১৬টি খাল পরিষ্কার ও খননকাজ শুরু হবে। আজ চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রকল্প অনুসারে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রকল্পের আওতায় শুরুতেই মহানগরীর ১৬টি খালের কাদা পরিষ্কার ও খননকাজ শুরু হবে শিগগিরই। সেগুলো হলো- চাক্তাই খাল, বির্জা খাল, রাজাখালী খাল-১ মির্জা খাল, রাজাখালী খাল-২, রাজাখালী খাল-৩, মরিয়মবিবি খাল, হিজরা খাল, মহেশখাল, কলাবাগিচা খাল, ডোমখাল, বামুনশাহী খাল (কোদালাকাটা খাল, কাটা খাল, সানাইয়া খাল, মধুছড়া খালও বামুনশাহী খালের অন্তর্ভুক্ত), চাক্তাই ডাইভারসন খাল (বাকলিয়া খাল নামেও পরিচিত), নোয়া খাল (বাইজ্জা খাল ও বালু খাল নামেও পরিচিত), খন্দকিয়া খাল ও নাছির খাল। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুনে। প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের মাটি অপসারণ, ৬ হাজার ৫১৬ কাঠা ভূমি , নতুন ৮৫ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মা, ১৭৬ কিলোমিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য ২ হাজার ৬৪০ কোটি, ৪৮টি পিসি গার্ডার ব্রিজ প্রতিস্থাপন, বন্যার পানি সংরক্ষণে ৩টি জলাধার, ৬টি আরসিসি কালভার্ট প্রতিস্থাপন, ৫টি টাইডাল রেগুলেটর, ১২টি পাম্প হাউস স্থাপন, ৪২টি সিল্টট্রেপ স্থাপন, ২০০টি ক্রস ড্রেন কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। ১৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটার রোড সাইড ড্রেনের সম্প্রসারণ, ২ হাজার বৈদ্যুতিক পুল স্থানান্তর, ৮৮০টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং ৯২টি ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কথা রয়েছে।
চউক কর্মকর্তারা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে পূর্বে রিটেইনিং ওয়াল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭৬ কিলোমিটার। তবে টেকনিক্যাল কমিটির পরামর্শে পরিবর্তন করে বর্তমানে তা কমিয়ে ১২৬ কিলোমিটার করা হয়েছে। কারণ, সিটি কর্পোরেশনের তালিকা দেখে যেসব রিটেইনিং ওয়ালে টেন্ডার হয়েছে সেগুলো বাদ দেয়া হয়েছে এবং নতুন কিছু সংযোজন করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম গতকাল বিকেলে বলেন, প্রকল্পের অনুমোদনের পর প্রক্রিয়া ঠিক করতেই কয়েকটি মাস পেরিয়ে গেল। আর দেরি করার সময় নেই। সামনেই বর্ষা মৌসুম শুরু হবে।এ প্রকল্পের সফলতা পেতে হলে কাজ শুরু করাটা জরুরি। এরই ধারাবাহিকতায় সেনাবাহিনীর সাথে এমওইউ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আগামীকাল (আজ) সোমবার থেকে চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ একক প্রকল্পের দ্বার খুলবে। ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা হলে আগামী ৫ বছরে উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম আরও এগিয়ে যাবে। ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার অবদান, স্বপ্ন ছোঁয়ার পথে চট্টগ্রাম’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামীকাল (আজ) সোমবার সকালে নগরীর পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লু’তে এ সমঝোতা সই হবে বলেও জানান তিনি।

দুর্নীতির মহাসড়কে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি, জনগন নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন চায় : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশে এখন সুশাসন নেই। ১৬ কোটি মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমরা মাঠে নেমেছি। আবশ্যই আমরা জয়ী হবো। দেশের মানুষ শান্তিতে নাই। দুর্নীতির মহাসড়কে আমরা হাবুডুবু খাচ্ছি। আমরা একজনের শাসন চাইনা। নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন চাই। প্রাদেশিক পদ্ধতির শাসন আমাদের সুশাসন দিতে পারে। দেশের ৮টি প্রদেশের চট্টলা হবে একটি প্রদেশ। প্রাদেশিক সরকার এ অঞ্চলের মানুষ শাসন করবে। বাংলার মানুষকে বাঁচাতে হবে। সর্বস্তরে নিরাপত্তা চাই। খুন হয় তা সরকার জানে।
গতকাল শনিবার বিকেলে সমাবেশে তিনি আরো বলেন, আগে আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকা-রংপুর যাতায়তে সময় লাগতো ৫ ঘন্টা। এখন লাগে ১৫ ঘন্টা। অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে বড় বড় গর্ত। মহাসড়কে হাবুডুবু খাচ্ছি। আমাকে বলত স্বৈরাচার। এখন আন্তর্জাতিকভাবে বলেছে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের কথা। গত দুই সরকারের সময় ৫ বার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। আমার সরকারের সময়তো তা ছিলনা। আমি ৪৬০টি উপজেলা, ৬৪টি জেলা, ১০ হাজার কি:মি: রাস্তা পাকাসহ বিভিন্ন ধরণের উন্নয়নের কাজ করেছি। যা বলে শেষ করা যাবেনা। কাফকো, সিইউএফএল করেছি। সিইউএফএল এ আমার সময়ে সার উৎপাদন হত, এখন সেখানে ১০ ট্রাক অস্ত্র খালাস হয়। চট্টগ্রামকে দ্বিতীয় রাজধানী করার চেষ্টা করেছি। হাইকোর্টের বেঞ্চ স্থাপন করেছি।
প্রদান অতিথির বক্তব্যে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি তিনি বলেন, উপজেলাগুলোতো আমার বাবার নয়, নিয়ে যাইনি। তা বন্ধ করা হলো কেন। সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল ১০ টাকায় চাউল খাওয়াবেন। ঘরে ঘরে চাকুরী দিবেন। এখন মানুষ ৬০/৭০ টাকায় চাউল খায়। গরীব মানুষের কষ্ট হয়। আর ঘরে ঘরে চাকুরীর খবর নেই। দেশে এখন ৪ কোটি ৮৬ লক্ষ বেকার যুবক। তারা এখন দেশের বোঝা। যুবকরা এখন ইয়াবায় আসক্ত হয়। যেখানে সেখানে ইয়াবা পাওয়া যায়। এখন বাল্যকালেই বাবা-মা ১৪ বছর বয়সেই মেয়ে বিয়ে দিয়ে দেন। কখন তার মেয়ে ধর্ষিত হয় এই ভয়ে। রাস্তার পাশে তার বাবা বসে থাকেন কখন তার মেয়ে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু ফিরে না, ধর্ষিত হয়ে পড়ে থাকে ধানক্ষেতে।
তিনি বলেন, ব্যাংকের টাকা লুটপাট হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চলে গেল, নাম প্রকাশ হলোনা। নিজেদের লোক জড়িত থাকলে নাম প্রকাশতো হবেনা। বাংলাদেশের যারা প্যারাডাইস পেপারস কেলেংকারীর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির কথা বলে শেষ করা যাবেনা। সংসদে শিক্ষামন্ত্রী যখন বলেন, ঘুষ খান সহনীয় পর্যায়ে, তারপরও তিনি মন্ত্রী থাকেন। জিপিএ-৫ পাশ করে নিজের নাম ঠিকমত লিখতে পারেনা। আগে পাশ করা ছিল কঠিন। এই পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থা দেশকে ভালকিছু দিতে পারেনা। এ সকল কিছুর জন্য আমাদের নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন প্রয়োজন। সরকারের পরিবর্তন প্রয়োজন। জনগন সীল দিতে পারলে, দেখবেন ঠিকই সরকার পরিবর্তন হবে। জানিনা আমরা সীল দিতে পারবো কিনা। অনেক কথা বলেছি। জানিনা আবার জেলে যেতে হয় কিনা। গরীব কৃষকরা টাকা না দিলে ধরে নিয়ে যায়। অথচ বড় বড় ঋনখেলাপীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। মানুষ একটু নিঃশ্বাস নিতে চায়। ইরান, সিরিয়া, লিবিয়া, আফগানিস্থানের মানুষকে সন্ত্রাসী বলছে পশ্চিমারা, ইসলামে সন্ত্রাসী বলতে কিছু নাই, আছে জিহাদ। তারা সন্ত্রাসী বলে নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ইসলামের কথা বলে যাবো।
সমাবেশে চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে আলহাজ্ব হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনেও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে ভোট দিবেন আপনারা।
সমাবেশে বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায় মন্তব্য করে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেছেন, দেশের মানুষ দুই নেত্রীকে চায়না। খালেদা, হাসিনাকে চায় না।
সম্মিলিত জাতীয় জোটের শীর্ষনেতা ও ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে সমাবেশে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু আরও বলেন, দেশের মানুষ পরির্তন চায়। ২৮ বছর ধরে দেশে হত্যা, খুন বেড়ে চলেছে। দেশে চলছে লুঠপাট। আজকের মহাসমাবেশের জনস্রােত প্রমাণ করে দেশের মানুষ সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ক্ষমতায় চান। আগামী নির্বাচনে লাঙ্গল-মোমবাতি মার্কায় জোটবদ্ধ হয়েছে। আমাদের ক্ষমতায় আসতে হবে। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।
সমাবেশে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সোলেমান আলম শেঠ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে কারাগারে খালেদা জিয়া

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আবারও কারাগারে নেয়া হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দুপুর দেড়টার দিকে তাকে আবারও কারাগারে নেয়া হয়।

বিএসএমএমইউ’র কয়েকজন চিকিৎসক খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। হাসপাতালে বেগম জিয়ার রক্ত পরীক্ষা ও এক্স-রে করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কক্ষে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় খালেদা জিয়ার। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে খালেদা জিয়ার কয়েকটি এক্স-রে করা হয়েছে।

এদিকে, খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে আসছেন এমন খবর পেয়ে ওই এলাকায় ভিড় করতে দেখা গেছে বিএনপি নেতা-কর্মীদের। একটা সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলেছেন শাহবাগ থানার এক কর্মকর্তা।

মাদকসেবী, বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে- মেয়র নাছির উদ্দীন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: প্রতিটি ওয়ার্ডে এবং পাড়া-মহল্লায় কমিটি গঠন করে মাদকসেবী, বিক্রেতা, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কার্যক্রমে লিপ্তদের চিহ্নিত করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানালেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের আজাদ কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন। এ সময় সবার বসবাসযোগ্য নিরাপদ নগরীর স্বার্থে জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে সামনে নিয়ে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে মেয়র জানান। মেয়র বলেন, আলোকিত সমাজ গড়তে নগরীকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত করতে হবে । এ লক্ষ্যে মাদকাসক্ত ঘৃণ্য ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের ছবি গণমাধ্যম এবং সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ফলে জনগণ এদের ঘৃণার চোখে দেখবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কাউন্সিলর এম মোবারক আলী। চসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন চসিকের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচএম সোহেল, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন, হাসান মুরাদ বিপ্লব, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেসমিন পারভীন জেসী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (মেট্টো) শামিম আহমদ। সমাবেশে মতামত দেন সাম্যবাদী দলের অমূল্য রঞ্জন বড়ুয়া, ইসকান্দর মিয়া, আবদুল মালেক, আনোয়ারুল ইসলাম বাপ্পী, মো. নাছির আলম, স্বপন মোল্লা, মনসুর রহমান চৌধুরী, আবু তাহের, রেজাউল বাহার, ইসকান্দর ইস্কু, সাইফুদ্দিন, নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক এনামুল হক, নুরুল ইসলাম ইছু, জাবেদুল ইসলাম, শামিমা আফরিন মুক্তি, কান্তা ইসলাম মিনু, হোসনে আরা পারুল প্রমুখ।

চট্টগ্রামে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসির আদেশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে একটি মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্র্যাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক রোখসানা পারভীন এ রায় দিয়েছেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হল সুজন কুমার দাস (২২) , সমীর দে (২৪) ও যদু ঘোষ (২৫)। ১০ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহন শেষে বিচারক ৯(৩) ধারায় প্রত্যোককে যাবজ্জীবন ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩৭৪ ধারায় বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুৃমোদন ক্রমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৪ ধারায় প্রত্যোককে মৃত্যুদন্ড ও ৫০ হাজার টাকার জরিমানার আদেশ দেন বিচারক।
জানা গেছে, পাহাড়তলী থানাধীন বাদী চন্দনা দাসের ছোট বোন পান্না রানী দাসকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয় সমীর দে ও যদু ঘোষ। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় হরি মন্দিরের কাছে বটগাছের নীচে কেরোসিন রেখে দেয় আসামীরা। পান্না রানী দাস তাদের ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে আসলে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে কেরেসিন ঢেলে পুড়িয়ে মেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
দন্ডপ্রাপ্ত এই তিন আসামী একই মেছে থাকত। ঘটনাস্থলে সুজন দে কোন লোক আসে কিনা তাহা পাহারা দেয়। বিভিন্ন লোকের সাথে কথা বলার সময় সুজন কুমার দাশকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সুজন কুমার দাসকে গ্রেতারের পর আসল রহস্য বের হয়ে আসে এবং ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
মামলার বাদী চন্দনা দাশ জানান, ২০১১ সালের ৭ জুন আমার বোন ছোট ভাই রূপন দাশকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যায়। পরে বাড়ি থেকে এসে শাহাজালাল গার্মেন্টসে চাকুরী করে রাতে বাড়ি ফিরে। আমি দাঁতের ব্যাথার ওষুদ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। গভী রাতে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার বোন ঘরে নাই।
খোজাখুজি করলে দুই একজন জানান, রাত দেড়টার দিকে দেখেছি বৃৃষ্টির পানি সংগ্রহ করতে। পরদিন ৮ জুন কাট্টলী হরিমন্দিরের পাশে পোড়ানো অবস্থায় আমার বোনকে পুড়িয়ে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বোড় বোন চন্দনা রানী দাশ পিতা-ধনারঞ্জন দাস বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা করেন ৩০২(৩৪) ধারায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চার্জশীট দিলে ২০১৩ সালের ২১ এপ্রিল চার্জ গঠন করেন বিচারক। একই আদালতে ভুজপুর থানার অপর মামলায় গত ৩ এপ্রিল শারমিন আক্তার(৮) শিশুকে ধর্ষনের অভিযোগে মীর হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন বিচারক।

রংপুরে নিঁখোজ আইনজীবি রথীশের লাশ উদ্ধার

নিউজ ডেক্স : নিখোঁজের ৫ দিন পর রংপুরে আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে র‌্যাব। গত রাত আড়াইটার  দিকে আইনজীবীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রী দীপা ভৌমিকের দেয়া তথ্যমতে নগরীর তাজহাটের মোল্লাপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। সেখানে একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় মাটিচাপা অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক নিখোঁজ আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের মরদেহটি শনাক্ত করেন।

পারিবারিক কারণেই এই খুন হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে স্ত্রীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

র‌্যাব-১৩-এর অধিনায়ক মেজর আরবিন রাব্বী, তার স্ত্রী দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা একটি মৃত দেহ উদ্ধার করি। মৃতদেহটি শনাক্ত করার জন্য নিকট আত্মীয় ভাই সুশান্তকে নিয়ে আসা হয়। আর এটি রথীশ চন্দের লাশ বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক বলেন, আমি ভাইয়ের কাপড় ও জুতা দেখে শনাক্ত করেছি।

গত ৩০ মার্চ সকালে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন জাপানি নাগরিক হোসিও কুনি ও মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক। এ ঘটনায় আটক করা হয় জামায়াতের ৫ নেতাকর্মীসহ ১০ জনকে।

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর জামিনে কারামুক্ত

নিউজ ডেক্স : বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আজ বিকেলে জামিনে আজ বিকেলে কারামুক্ত হয়েছেন।

হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের প্রিজনভ্যানে হামলা করে নেতাকর্মীদের ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গত ৩০ জানুয়ারী রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গয়েশ্বর রায় কাশিমপুর কারাগার থেকে বের হয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করতে যান।

 

নাটোরে হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

এম এম আরিফুল ইসলাম , নাটোর প্রতিনিধি :

নাটোরের বড়াইগ্রামে বৃদ্ধাকে হত্যার দায়ে নাত জামাই সহ ৬ জনকে যাবজ্জীবন এবং পূত্রবধূকে ৭ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হাসানুজ্জামান এ রায় দেন। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, নাত জামাই শামীম, প্রতিবেশী মিল্টন, আশরাফুল, সেলিম, আব্দুস সামাদ ও শফিকুল ইসলাম। আর ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হচ্ছেন পুত্রবধু বিউটি আক্তার।
মামলা বিবরনিতে জানা যায়, ২০১২ সালের ৯ নভেম্বর নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার দিয়ারপাড়া গ্রামের বৃদ্ধা আঙ্গুরি আবেদীনী নিখোঁজ হন। ৩ দিন পর ১২ নভেম্বর বাড়ির পাশের একটি কলা বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় বৃদ্ধার ছেলে রফিকুল ইসলাম ১১জনকে অভিযুক্ত করে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ১০জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র জমা দেন। আদালত স্বাক্ষ্য প্রমান শেষে এই রায় দেন।