রূপসায় পুশের নামে কোস্টগার্ডের জব্দকৃত ৪৭২ কেজি চিংড়ি আড়তে বিক্রি : ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ

খুলনা প্রতিনিধি : রূপসায় পুশের নামে কোস্টগার্ডের অভিযানে বিনা রিসিডে একলাখ টাকা জরিমানা আদায় ও জব্দকৃত ২ হাজার ৩০৭কেজি বাগদা চিংড়ির ৪৭২কেজি চিংড়ি খুলনার রায়েরমহলের একটি মৎস্য আড়তে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জব্দকৃত চিংড়ি বিক্রির পর ওই আড়তে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের চিংড়ি রাখা ক্যারেট বিক্রি করতে গেলে এতথ্য ফাঁস হয়ে যায়। ১৫ এপ্রিল রাতে এসব চিংড়ি জব্দ করার পর গতকাল ১৬ এপ্রিল সকালে জনৈক মঈন উদ্দীন রায়েরমহল মোস্তফা মৎস্য আড়তের ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজে ১৮ ক্যারেটে থাকা এ চিংড়ি বিক্রি করেন। এনিয়ে ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বংশীপুর এলাকার মেসার্স আছমা ফিস এর মালিক বাবর আলী ও মেসার্স মনোয়ারা ফিসের মালিক আবু জাফর জানান, তারা তাদের মোকাম থেকে ১৭২ ক্যারেট বাগদা ৬ ক্যারেট গলদা চিংড়ি একটি ট্রাকে করে ১৫ এপ্রিল খুলনার রূপসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। যার ওজন ৪হাজার ৬১৫ কেজি। তারা রাত পৌনে ৯টার দিকে চিংড়ি বোঝাই ট্রাকসহ রূপসার খানজাহান আলী (রহঃ) সেতুর ওপর আসলে কোস্টগার্ড ট্রাকসহ তাদের আটক করে সেতু সংলগ্ন কোস্টগার্ড অফিসে নিয়ে আসে। এসময় কোস্টগার্ডের পেডি অফিসার তাহেরুল ইসলাম, খুলনা মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের মৎস্য পরিদর্শক ইফতেখার হাসান, আমিনুল ইসলাম ও লিপ্টন সরদার উপস্থিত ছিলেন। তারা এসব চিংড়ি পুশ বলে দাবি করে ওই দুই ব্যবসায়ীকে অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ ও মারপিট করেন। এক পর্যায় রূপসা চিংড়ি বনিক সমিতির নেতৃবৃন্দ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কোস্টগার্ড ১৭৬ ক্যারেট চিংড়ির মধ্যে ৮৮ ক্যারেট চিংড়ি পুশ হিসেবে চিহ্নিত করে দুই ব্যবসায়ীকে ৫০হাজার টাকা করে একলাখ টাকা জরিমানা করেন। ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে একলাখ টাকা প্রদান করলেও তাদের কোন রিসিড দেয়া হয়নি। ফেরত দেয়া হয়নি জব্দকৃত ৮৮ ক্যারেট বাগদা চিংড়ি। যার পরিমান ২হাজার ৩০৭ কেজি। এসব চিংড়ি বিনষ্ট করার কথা বলে ক্ষতিগ্রস্ত দুই ব্যবসায়ী এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দদের কোস্টগার্ড অফিস থেকে বিদায় দেন তারা। পরে গতকাল ১৬ এপ্রিল সকালে জনৈক মঈন উদ্দীন জব্দকৃত ৮৮ ক্যারেট বাগদার মধ্যে ১৮ ক্যারেট বাগদা (৪৭২ কেজি) খুলনার রায়েরমহল ভাই ভাই মৎস্য আড়তে এক লাখ ৫৪ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। চিংড়ি বিক্রির পর ক্যারেটে লাগানো আছমা ফিস ও মানোয়ারা ফিসের স্টিকার লাগানো ক্যারেটগুলো স্বল্প মূল্যে বিক্রি করার উদ্যোগ নিলে আড়তদারের সন্দেহ হয়। এসময় তারা স্টিকারে থাকা মোবাইল নম্বরে কল করলে বেরিয়ে আসে প্রকৃত রহস্য। সাথে সাথে বিক্রেতা মঈন উদ্দীন আড়ত থেকে কেটে পড়েন। জব্দকৃত বাকী এক হাজার ৮৩৫ কেজি চিংড়ি কি হয়েছে তার হদিস এখনো মেলেনি।

এ ব্যাপারে ওই মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বাবু বলেন, কোস্টগার্ড বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংস্থা পুশ বিরোধী অভিযান চালালে আমরা তাদের সর্বাত্বক সহায়তা করে থাকি। তবে পুশের নামে চিংড়ি জব্দ করে আইনের লোকের সহায়তায় তা যদি আড়তে বিক্রি হয় তাহলে আমাদের কিছুই করা থাকেনা। এসব কর্মকান্ডে তিনি তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি এর সাথে জড়িতদের তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করেন। এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড রূপসা অফিসের পেডি অফিসার তাহেরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি গতকাল সকালেই এখান থেকে তড়িঘড়ি করে বদলি হয়ে মংলা চলে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এমনকি কোস্টগার্ড কর্মকর্তা তাহেরুল ইসলাম এবং মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের মৎস্য পরিদর্শক ইফতেখার হাসান, আমিনুল ইসলাম ও লিপ্টন সরদার এর মোবাইলও বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে খুলনা মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন বিষয়টা আমার জানা নেই। তবে এধরনের ঘটনা ঘটলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।